আরণ্যক টিটো (Page ১১)

সম্পাদক— প্রকৃতিপুরুষ

কবি ও কবী : বানান বিষয়ক আলাপচারিতা

আরণ্যক টিটো— ‘কবি’ শব্দের বানান নিয়ে আমার মন ও মননে বিশদ ভাবনা ছিল না, একসময়। কিন্তু, বর্ত্তমানে ভাবনাতাড়িত আমি… যিনি কবিতার রচয়িতা, তিনি কবি? না কি অন্যকিছু? আর কবিতা রচনা করলে তাহাকে কবি বলা হবে-ই-বা কেন? এবং ‘কবি’ ও ‘কবিতা’ এই শব্দ দু’টার অর্থই-বা কী?

ব্যাখ্যা বিজ্ঞান

(সাহিত্য পাঠ এবং সাহিত্য অনুধাবন দুটো আলাদা ব্যাপার।) সাহিত্যের অতি সাধারণ পাঠকের মুখ থেকে অনায়াসে ব্যাখ্যা বিজ্ঞানের কথা শোনা যায় না। ইংরেজী Hermeneutics (বাংলা হের্মেনেত্য, বাখ্যা বা দ্বিভাষিকতার বিজ্ঞান) বলতে, সাধারণত লিখিত শব্দ থেকে মর্ম্মার্থ বের করা বোঝায়। ব্যাখ্যা বিজ্ঞানে অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়ার সাথে ঠিক

সংস্কৃতির সেকাল একাল

আমাদের আদি সংস্কৃতি গুলোর দিকে একটু পেছন ফিরে তাকাই। যেমন— কবিগান, পালাগান, জারী, সারী, ভাটিয়ালী, যাত্রাপালা আরো বহুবিধ সংস্কৃতি ছিল বাংলার অঙ্গনজুড়ে। যাত্রাপালা বাঙ্গালী জাতীর সবচেয়ে বৃহৎ প্রেক্ষাপটে এক আদি সংস্কৃতি। সিনেমা এসে এ ভুখন্ডে তখনও পৌঁছায়নি, অষ্টাদশ শতক অর্থাৎ ১৭০০ সালে যাত্রা ধারণাটি ছড়িয়ে

ইমসোমনিয়া

৪০ সংখ্যাটা গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ মুসাকে ৪০ রাতের ওয়াদা করেছিলেন। ইলিয়টের কাছে কবিতার দীক্ষা নিতে এলে উনি একজনকে উপদেশ দেন ৪০ বছর পর আসার জন্য। মানে চল্লিশ না হলে মানুষ পরিপক্ব হয় না। নবিজীও নবুয়ত পেয়েছেন ৪০ বছরে। ৪০বছরে মানুষ ভিন্ন মাত্রার জগতে প্রবেশ করে। টাকা,

শব্দের উৎস কিংবা (ক্রিয়াভিত্তিক-বর্ণভিত্তিক) অর্থ সন্ধান (পর্ব্ব— পাঁচ)

সূচী: ঢল ।। রক্ত ।। সৌদামিনী ।। মেদ, মেধ ।। নমস্কার ও প্রণাম     এই অতিমারীর কালে যখন বলা হচ্ছে, ঘরে থাকুন ঘরে থাকুন— রাস্তায়, শপিংমলে, যানবাহনে তখন মানুষের ঢল নেমেছে। ঢল তো নামে পাহাড় থেকে, অতিবৃষ্টির কালে পাহাড়ী ঢাল বেয়ে ঢলের পানী গড়িয়ে

শত বছরে ঢাবি : অসঙ্গত যেই কথা মনে খায় খাবি

দস্যু-তস্কর-লুটেরাসঙ্ঘ যক্ষণ পরদেশের ভূমী গ্রাস করে দখলদারসঙ্ঘ বনে যায় তক্ষণ তাহাদের সেই দখল বজায় রাখিতে যাহা যাহা করিতে হয় তাহাই তাহাই করেছে বঙ্গভূমির বৃটিশ দখলদারসঙ্ঘ ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী। অব্যহতভাবে লুণ্টিত ও চোষিত সম্পদ নিজ দেশে পাচারের জন্য তাহারা নানান প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। সেই সব প্রতিষ্ঠানের

কুবলা খানের জগতে

এক— কখনো কখনো বাস্তবতা থেকে দূরে সরে গিয়ে কবীরা স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করেন। নির্ম্মাণ করেন নিজস্ব মায়ার শহর। শব্দের প্রতিবেশিতার ফাঁকে ফাঁকে সুবাসিত হয় পরাবাস্তব সৌন্দর্য্য। যেমন, কোলরিজের কুবলা খান। কুবলা খানের জানাডুর মতন রবীন্দ্রনাথও ‘উজ্জয়নিপুর’ তৈরী করেছেন। পবিত্র আলফ নদীর মত, রবীন্দ্রনাথেও শিপ্রানদী বয়ে

আমারে বধিবে যে হৃদয়ে বাড়িতেছে সে, জনশ্রুতি ঢুকে পড়ে মিথের ভেতর ও দোল-রং

আমারে বধিবে যে হৃদয়ে বাড়িতেছে সে এই কাল সাক্ষ্য দিচ্ছে গোপনের, নিশ্চয় আড়াল কর্‌ছে প্রকাশ্যের-ও; লিখে রেখেছে স্বেচ্ছায়, আমারে বধিবে যে হৃদয়ে বাড়িতেছে সে। … এই ক্ষণ হৈতে পার হয়ে গেল কথারা— পার হয়ে গেলে গন্তব্য, শ্রী বেরিয়ে পড়ে ভ্রম বিহারে— ভ্রমর এসে জানান দেয়

বঙ্গীয় নারী শিক্ষা ও বর্ত্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় নারির জীবন

শিক্ষা শব্দটা আমাদের জীবনযাত্রার সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। কারণ শিক্ষাই মানুষের বৌদ্ধিক ও কৃষ্টিগত ঐতিহ্যকে সৃজনশীল ও গতিশীল করে তোলে। মানুষের মন, বুদ্ধি ও রুচিকে সুবিন্যস্ত করে এই শিক্ষা। শিক্ষা শব্দের উৎপত্তি সংস্কৃত ‘শাস’ ধাতু থেকে। সাধারণভাবে বলা যায় মানুষের আচরণের কাঙ্খিত, বাঞ্চিত এবং ইতিবাচক

(ক্রিয়াভিত্তিক-বর্ণভিত্তিক ভাষাদর্শনের গল্প) জল

চৈত্রের শুরু, বৃষ্টির দেখা নাই, আকাশেও মেঘের ছিটেফোঁটা দেখা যায় না। প্রচণ্ড খরা, মাঠ, ঘাট শুকিয়ে ঠনঠন। তন্ময়ের দাদুর বাড়ীতে সামনে যে পুকুরটা তাতে জল শুকিয়ে এসেছে, কামলারা আড় বেঁধে কুইন দিয়ে পাশের খালে জলসিঞ্চন করছে। খাল বেয়ে জলের ধারা গিয়ে ধান ক্ষেতে পৌঁছবে। পুকুরের

গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস ও নিঃসঙ্গতার শতবর্ষ

বিশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী লেখক গ্যাব্রিয়েল হাসে ডি লা কনকর্ডিয়া গার্সিয়া মার্কেস (Gabriel Jose de la concordia Garcia Marquez), তিনি গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস (১৯২৮-২০১৪) নামেই সমধিক পরিচিত। তিনি কলম্বিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য দ্বারা বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত হলেও সমগ্র ল্যাটিন আমেরিকার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে তাঁর লেখনীতে

বাঙালীর চিন্তা

ভাষাতত্ত্ব আর সমাজ মনস্তত্ত্বের বিশ্লেষণে দেখা যায় যে বাংলার জনগণ সবসময় আত্মকেন্দ্রিক চিন্তা চেতনা নিয়েই বিচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে গেছে। উনবিংশ শতকের বঙ্গীয় রেনেসাঁ তথাকথিত বাঙালী ভদ্রলোক সমাজের জন্য কিছুটা কাজে আসলেও, নিম্নবর্গের অচ্ছুৎ হিন্দু আর মুসলমান বাঙালী জনগোষ্ঠীর জন্য কোন কাজেই আসেনি। বাংলাদেশের জনগোষ্ঠী তাদের আত্মপরিচয়