আরণ্যক টিটো (Page ১০)

সম্পাদক— প্রকৃতিপুরুষ

শব্দের ইন্দ্রজাল : দেহ ও শরীর, দেহ ও মন

পথ চলতে কারো সঙ্গে দেখা হলে আমরা বলি, “কেমন আছেন?” ফোনকলে সালাম বিনিময়ের পর আমরা কুশলাদি জানতে বলি, “শরীর কেমন?” আমরা আলাদা করে জানতে চাই না মনটা কেমন আছে। তবে হুমায়ুন আহমেদ-এর এক নাটকে একটা সংলাপ ছিল এমন, ‘মনডা ভালা?’ দেহের খবর নিলে মনের খবর

চাচাকাহিনী : পর্ব্ব – ২

চার— ইন্টারভ্যু বোর্ড বসেছে, প্রার্থী একজন, প্রশ্নকর্ত্তা তিনজন। আসলে একজনই। প্রায়শই বোর্ডর অপর দুই সদস্য আপন ও আমাকে প্রধান প্রশ্নকর্ত্তার প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। চাচা জিজ্ঞেস করলেন, ‘সিদ্ধান্ত কী?’ এ যেন আধুনিককালের সক্রেটিস, শিষ্যদের মৌলিক প্রশ্ন করে এলোমেলো করে দেন। ফাণ্ডামেণ্টাল নলেজের পরীক্ষা দিতে গিয়ে

চাচাকাহিনী : পর্ব্ব – ১

এক— শুক্রবার সকালের ঢাকা মানে কর্ত্তারা ঘুমাচ্ছে, ড্রাইভার সব ছুটিতে। রাস্তাঘাট বিদেশের মত ফাঁকা। মিরপুর থেকে বারিধারা যেতে সাকুল্যে ৩০ মিনিট লাগল, তাও লাগত না যদি ‘ঘুটি কাকলি আসিলে আর্মি ষ্টেডিয়াম ঘুরিয়া যান’ না থাকিত। আবাসিক এলাকাগুলোর ভেতর গুলশান, বনানীর চেয়েও বারিধারা আমার কাছে অভিজাত

লাইব্রেরী অব ব্যাবেল

“আয়না এবং সঙ্গম উভয়ই পরিত্যাজ্য। কারণ তা সংখ্যা বৃদ্ধি করে”। বোর্হেসের কথাটা লাইব্রেরীর ওপর লেখা দেখে রঞ্জু অবাক হয়ে গেল। জাহিদের মত money minded মানুষের বাড়ীতে এত সুন্দর একটা লাইব্রেরী। জাহিদের motto/মূলমন্ত্র ছিল ‘money is second god’ কিন্তু সময় মানুষকে কী না করে! একজন নির্দ্দয়,

মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যাবস্থা

যখন থেকে মানুষের সংঘবদ্ধ জীবনযাপনের গোড়াপত্তন তখন থেকে আজ অবধী বেশ কয়েকধরণের সমাজব্যাবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। তার মধ্যে মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যাবস্থা একটী। আর একথা প্রথমেই বলে রাখা প্রয়োজন যে, মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যাবস্থা হল মানুষের সমাজ ও সভ্যতা স্থাপনের সময়কার প্রথম ও আদি সমাজব্যাবস্থা। একথার পক্ষে যুক্তি পাওয়া

বাঙ্গালা বানান কী কঠিন, কী কঠিন! অথবা, বাঙ্গালা বানান কি সত্যিই জটিল!

সম্প্রতি এক বাঙ্গরেজ কলেজছাত্রীর সাথে কথা হচ্ছিল— উফ্! বাঙ্গালাটা কী কঠিন ভাষা। হ্রস্ব ই, দীর্ঘ ঈ, কোথায় যে কোন্টা বসবে বোঝাই যায় না। আরে, উচ্চারণ তো সেই একই— /i/। তাহলে এত জটিলতা কেন। এইজন্যই বাঙলা ভাষা দিয়ে হবার কিছু নয়। মোবাইলেও সেই জন্যই নাকি বাঙলা

নথ (ক্রিয়াভিত্তিক-বর্ণভিত্তিক ভাষাদর্শনের গল্প)

সকাল থেকে একটানা বৃষ্টি হচ্ছিল, বেলা বাড়ার সাথে সাথে বৃষ্টি ধরে এল। তন্ময়দের হালট পর্য্যন্ত বর্ষার ঘোলাজল। বহুদূর পর্য্যন্ত দেখা যায় বারান্দায় দাঁড়ালে। কত ধরনের নৌকা যে কোথায় চলে যায়। তন্ময় গুনতে গুনতে খেই হারিয়ে ফেলে। আকাশে রোদ মেঘের খেলা চলছে যখন তখনই তাদের বাড়ীর

অপরাধ বিষয়ক

আমাদের অপরাধটুকুর বর্ণনা মাত্রা লিখে রাখা যায়, বিজ্ঞানপাতায়! … সুন্দর মুহুর্তটুকু ফুটিয়ে তোলার জন্য অপরাধটুকুর প্রয়োজন ছিল! বর্ষার কাজল পরা চোখে, বৃষ্টির মুগ্ধতা ঝরা কিছু অপরাধ জমা থাক, কদম ফুলের কাছে! … এটুকু জানুক, ভোরের মানসি! আরও জানুক, অপরাধ বিপ্লবের ধাত্রী, ফুল ফোঁটার ব্যাকরণ! যারইই

অন্তঃস্থ ব শ্রুতি

লিমন ভাই, ‘যাওয়ার’ লিখব, না ‘যাবার’ লিখব? — যাওয়ার আর যাবার; জওয়াব না জবাব, কী হবে? তুই কি জানিস তুই কীসে হাত দিলি, নীলা? : ওমা আমি আবার করলাম? — কী করছিস মানে! ওলট-পালট করে দিয়েছিস। : কী? তোমার মন? — এহ্, আমার মন! মনই

স্বাধীনতা ও অন্যান্য কবিতা

প্রিয় কমরেড বাঙলা ভেঙে আলাদা হল কত আগে! সে কোন্ রাজনীতির জয়? বল যদি— বিপর্য্যয়! প্রিয় কমরেড! তুমি ওপার-বাংলায় আমি এপার-বাংলায়— কেবলমাত্র একটি স্বরবর্ণের দূরত্ব নিয়ে আমরা বেঁচে থাকছি বর্ডারের দুপাশে তথাপি কাছাকাছি— জাতীয়তার বুলেটে ক্রমাগত এতটাই জর্জ্জরিত তবুও সমগ্রকে ধারণ করে হয়ে উঠছি বিশ্বনাগরিক!

পোষ্টমডার্ণিজম ও এর বৈশিষ্ট্য

Postmodern শব্দটীর বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে উত্তরাধুনিক, উত্তর-আধুনিক, আধুনিকোত্তর, অধুনান্তিক শব্দের প্রয়োগ রয়েছে। এসব শব্দের বিভিন্ন মানে রয়েছে, শব্দের প্রয়োগকৌশল শব্দের মানে নির্দ্ধারণ করে দেয়। ফলে Postmodern শব্দেরও বিভিন্ন মানে বিভিন্ন জনের কাছে প্রতিভাত হয়। Postmodern শব্দটী সচেতনভাবে প্রথম প্রয়োগ করেন ফরাসী চিত্রসমালোচক ও শিল্পী জন

অল্পস্বল্প জীবন পাঠ

জীবন নিয়ে অনেক তত্ত্বকথা আছে। এইসব তত্ত্বকথায় আছে ধর্ম্মতাত্ত্বিক মতামত, পুরাণকেন্দ্রিক গল্পকাহিনী, অধিবিদ্যাজাত উপস্থাপনা, বস্তুবাদী মতামত আর বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ৷ আমি জীবন নিয়ে বলতে গিয়ে তত্ত্বকথা শুনাব না, বরং আমার সামান্য জ্ঞানকে অবলম্বন করে প্রায় মুর্খের মত অতি সহজ ভাষায় কিছু বলবো৷ আমার কথায় অধিবিদ্যাজাত দর্শন,