আরণ্যক টিটো (Page ৪)

সম্পাদক— প্রকৃতিপুরুষ

‘বিনির্মাণ’ একটা প্রত্যয়ের কবিতা

এজাজ ইউসুফী জন্ম: জানুয়ারী, ১, ১৯৬০। উত্তর আধুনিকতাবাদী কবি, লেখক, সম্পাদক এবং সাংবাদিক। নব্বইয়ের দশকের সমকালীন প্রেক্ষাপটে কবিতা বিনির্ম্মাণের করণ-প্রকৌশলে ইউসুফী বিশেষ মাত্রা যুক্ত করেছেন। সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে উত্তর আধুনিকতাবাদ ধারণার প্রবর্ত্তনে ভূমিকা পালন করেছেন একজন চিন্তার প্রবক্তা হিসেবে। [১] তাঁহার কবিতায়

এনলাইটেনমেণ্ট কী বস্তু?

এনলাইটেনমেণ্ট (Enlightenment) হচ্ছে স্ব-আরোপিত অভিভাবকত্ব থেকে মানুষের মুক্তি। অভিভাবকত্ব হচ্ছে অন্যের দিক্-নির্দ্দেশনা ছাড়া নিজের বোধশক্তি ব্যাবহারের অক্ষমতা। এই অভিভাবকত্বে মানুষ স্বেচ্ছায়-আবদ্ধ হয় যখন এর কারণ যুক্তির অভাবে নিহিত থাকে না, বরং অন্যের দিক্-নির্দ্দেশনা ছাড়া তা ব্যাবহারের সংকল্প এবং সাহস না থাকা এর কারণ হয়। জানার

ভাষা ও সাহিত্য

অধ্যাপক মহাশয় ভাবিতেছেন, ভাষা ও সাহিত্য একৈ বিষয় না! … ইহা ভুল ভাবনা! … কারণ, ভাষা ও সাহিত্য পরস্পরের পরিপূরক, না হৈলে সাহিত্য করার জন্য আপনি ভাষাকে বেছে নিয়েছেন কেন? … মানুষের (উদ্ভাসিত) নৈমিত্তিক জীবন যাপনের যেই ভাষ্, সেই ভাষ্-এর আধার হৈল ভাষা। এই ভাষা/প্রকৃতিই

বিজুর অজানা কথা

এই রচনাটা কলিম খান এবং রবি চক্রবর্তী রচিত ক্রিয়াভিত্তিক-বর্ণভিত্তিক শব্দার্থবিধি অনুসরণ করে লেখা হয়েছে। আমরা বাঙ্গালা, হিন্দী, ইংরেজী বিভিন্ন ভাষার অভিধান খুললে চাকমা শব্দের সাক্ষাৎ পাই। এই যুগের ঐতিহাসিক ভাষাতাত্ত্বিকেরা সম্প্রতি জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্ত্তমান পৃথিবীর সমস্ত ভাষা, যাহার সংখ্যা ৬০০০, আসলে একৈ আদি মহাভাষা

জাক লাকাঁ এবং ‘নির্ম্মিত’ মানুষ

বাঙ্গালা ভাষায় জাক লাকাঁকে নিয়ে লেখালেখি খুব একটা চোখে পড়ে না। এই কথা আমরা জানি যে লাকাঁ পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। সাইকিয়াট্রী ছিল তাহার কর্ম্মক্ষেত্র। অথচ খোদ সাইকিয়াট্রীতেই লাকাঁ পড়ানো হয় না। এদিকে এ-ও বলা বাহুল্য হবে না যে, সাইকিয়াট্রী বিশেষত সাইকো-অ্যানালিসিসকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লাকাঁ

রোদন অরণ্যেই করুন, অরণ্যৈ বোঝে মর্ম্মব্যথা

রোদন অরণ্যেই করা উচিৎ। মানুষ মানুষের ভাষা বোঝার সময়, মানবিক পরিস্থিতি হারিয়ে ফেলেছে। বৃক্ষদের দিকে তাকান, যক্ষণ মানুষ ছিল না তক্ষণো তারা প্রাণপ্রদায়ী বায়ু, সুশীতল ছায়া, ফল এবং ফুল প্রদান করেছে। তাহাদের ওপর মানুষের এত অত্যাচার সত্ত্বেও তাহাদের সেই দানের কমতি পড়ে নাই কোনদিন। বৃক্ষদের

( . ) বিন্দুরূপিণীর নয়ন দর্শন

… শূন্যে উত্থান তোমার, তুমি এ-ক > দিশাগ্রস্তন্-কারী! দিশা থেকে বিদিশার পাঠশালায় (এ) দিশাগ্রস্তন্ (ই) সক্রিয়ণ্ তোমাকে বলিতেছি, ‘এই’, শোন গো— তোমার এলাকা কোথায়? কোথায় চলিতেছ? … তোমার ‘(এ) দিশাগ্রস্তন্ (ল্) লালন্ (আ) অস্তিত্ব (ক্) করণ্ (আ) অস্তিত্ব’ অর্থাৎ এলাকা; বলিতেছে (তোমার) আগেও শূন্য, পরেও

শাহজাদী রাত

রাত্রী ঘুম ঘুম সান্দ্র হয়ে এলে নিজেকে শাহজাদী মনে হয় ঢেউ তোলে মায়াবী মসলিন মিয়া তানসেন সুর ধরেছেন মধ্যরাতের দরবারী কানাড়া! আলোটা নিভিয়ে দাও জেগে থাক নক্ষত্রের পাহারা! অন্ধকার চোখে সয়ে গেলে খুঁজে নেব হারিয়েছে যা কিছু প্যান্ডোরার বাক্স যেদিন হাত ফসকে … প্রথম গোলাপ,

বুলেট ও বাগান

অস্ত্র ব্যবসায়ীদের বল হাওয়াই মিঠাই-এর কারখানা দিতে সন্ত্রাসের হুংকার বন্ধ, নিমেষেই ভাবা যায়, এখনও লিঞ্চিং দিনের আলোয়? কেবল ওদের রঙ কাল বলেই উল্লাসে মেতে ওঠ মারণ খেলায় এইবার তোমাদের অস্ত্র আইন বদলাও গালভরা মানবতাবাদী বিবৃতি দিলেই সম্পূর্ণ হয় না মানবতার পক্ষে সাফাই! মাত্র তিন মাস

শীত আসছে

জানালায় মেঘ জমেছে স্মৃতি বরষা জাতিস্মর সময় আমি, নাকি আমি নই? অথবা তুমি, নাকি অন্য কেউ? আয়নায় অচেনা চোখ! পলকে চলকায় পলাতক জল! জানালা কত কী খুঁজে আনে! তন্ন তন্ন করে ভূ-সমুদ্দুর! কিশোরী নির্জনতা সাবলীল ডানায় উড়ে আসে এক একটা দশক, খুব কি অন্য রকম?

বন্ধু

একটা নতুন সকালের রোদ, বয়ঃসন্ধিকালের লাবণ্য নিয়ে আমাকে ঘাসের ভিতর এনে দিয়েছিল স্বল্পদৈর্ঘ্য শিশিরের প্রণয়। আমি একটা যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে পিছনে, হিরোশিমার সব ক্ষত ভুলে গিয়ে, সামনে এগোতে হাতে তুলে নিয়েছিলাম সভ্যতার প্রথম সুমেরীয় চাকা। নূহের প্লাবনের পর, তুমিই ত আমার ভুবনে বিবর্ত্তন ঘটিয়েছিলে… এককোষী অ্যামিবা

সত্তা ও সৌন্দর্য : রবীন্দ্রনাথ ও আইনষ্টাইনের কথোপকথন

Tagore: You have been busy, hunting down with mathematics, the two ancient entities, time and space, while I have been lecturing in this country on the eternal world of man, the universe of reality. ঠাকুর: আপনি অঙ্কশাস্ত্রের দুইটা প্রাচীন সত্তা, স্থান এবং কাল-এর অনুসন্ধানে নিজেকে