Taher Almahdi (Page ৫)

সাহিত্যপ্রেমী, ওয়েব ডেভেলপার।

পর্য্যুদাস

স্বাধীনতা বলতে ওরা বুঝত গুহার ভেতরে অন্ধকার মুক্তি বলতে ওরা বুঝত সনদে স্বাক্ষরিত দলিল সত্য বলতে ওরা বুঝত অন্ধত্বের কাছে নতজানু থাকা বিপ্লব বলতে ওরা বুঝত মুখস্ত বোলীর ঠিকাদারী আগুনমুখার জলন্ত মোহনা হাতের মুঠোয় নিয়ে আমি ফিরে এসেছিলাম আমার উদ্বাস্ত পিতার কাছে আমার সকল পরাজয়

প্রিয়, ভোরের শিউলি ঝরা পথে যেতে যেতে আপনাকে যাহা বলেছিলাম

এই মহাবিশ্ব একটা কবিতা, একটা তত্ত্ব, সৌন্দর্য্যের আধার, কবিতায় তত্ত্ব থাকে, থাকিতে পারে, না-ও পারে! কথা হৈল, কবিতা কতদূর? তত্ত্বকে নিয়ে, তত্ত্বকে ছাপিয়ে টোটাল কবিতা হৈল কতটুকু? কেবল, তত্ত্ব-ও কবিতা হৈতে পারে, যেমন পরমাপ্রকৃতি … কবিতাবিহীন তত্ত্ব কবিতা না; তত্ত্ব হৈল— কবি যক্ষণ লেখে অবচেতনে

ট্রামরেস আয়ুরেখাপথ

ট্রামরেস আয়ুরেখাপথ অঙ্কের গাড়ী— ধর, ১/ ২ /৩— তাদের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে যে লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স, তার বাঁশী ও ধোঁয়াশাতোলপাড় রেসের মধ্যে একজোড়া চোখ।   একটা চোখ, ভাগীরথী একটা চোখ, অলকানন্দা— দূর-সম্পর্কে বোন হয় তারা। আর এক জীবনানন্দ মনখারাপের ট্রামের নীচে আইসবার্গের মত নিজেরই ভঙ্গুর

স্কুল একটা রাষ্ট্রপালিত প্রাণী

এর চারটা হাত ও একটা লেজ আছে। অন্যান্য প্রাণীর মত চোখ, কান না থাকলেও তাহার একটা মুখ আছে, যা দ্বারা সে সকাল-সন্ধ্যা অনর্গল বকর্ বকর্ করতেই থাকে। আমরা বিরক্ত হই। কিন্তু যেহেতু স্কুল একটা রাষ্ট্রপালিত প্রাণী তাই মুখ বুজে স-ব সয়ে যাই। রাষ্ট্র একটা রাখাল

ফতোয়া

শিল্প ধর্ম্মসম্মত না হয় যদি … তবে ধর্ম্ম শিল্পসম্মত নয় … কিন্তু জীবন শিল্পময়! … এবং অদৃশ্য ভাস্কর জানে মানুষ বিমূর্ত্তের গর্ভে মূর্ত্তমান জীবন্ত ভাস্কর্য্য— দৃশ্যের সৌন্দর্য্যে প্রকাশিত অদৃশ্যের নন্দনকানন … এবং আমরাও … শিল্পের সত্তার সত্যায়ণে এইটুকু বলিতেছে, কালসময়কামনাপ্রিয় টবজ অর্কিড, প্রস্ফুটিত গোলাপ, কামিনী,

অর্ব্বাচীন

অজস্র কীটের ভিড়ে ও দংশনে সেও কি হয়ে ওঠেছিল বিষের ভয়াবহ কুণ্ডলী জীবনের পরতে পরতে পরাজয় উৎযাপন শেষে ফিরত জঘন্য আঁস্তাকুড়ের ঠিকানায় চারপাশে তার হাজার হাজার জীবন্ত মৃত্যুকূপ খুঁড়ে রেখেছিল যে প্রিয় স্বজনেরা অনায়াসে তারা বলতে পারত, এই তো ভালবাসা, স্নেহ-পর্ব্ব, প্রণয় উপাখ্যান ভীষণ উল্লাসে

সাফাইর

সাফাইর আর্য্যভট্ট! কোথায় শূন্য+তা? কোন্ নীল শূন্যতায় আকাশকে আকাশে ছড়িয়ে… (0) শ্যুন্যেয়া হয়ে যাও নিমফুলের পাতায়। এক অসম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন অস্তিত্বে নিরপেক্ষ আওয়াজ; বিদীর্ণ করছে নালন্দার প্রত্নতত্ত্ব। নাহ! তুমি___ ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক। কোনটাই নও! আমি এক পাই। আমাকে নির্ণয় কর মাইক্রোওয়েভে; দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতাবিহীন একমাত্রিক রেখায়,

ভাষা

ভাষ্ যোগ আ সমান ভাষা অর্থাৎ ভাষের আবাস হৈল ভাষা! সোণালী আলোয় রাঙ্গা ভোরের উদ্ভাসে (ভাষ্) ক্রিয়ার কাজলে যাও কত কথা বলে চোখের ভাষায়! যাহাতে তোমাকে পাই প্রচ্ছন্ন আভাসে, ভাষাভাষাপ্রেমে, সৃজনবাগানে মূর্ত্তমান (লতা, পাতা, ফুল, পাখী …) বিবিধ অক্ষরে নিজেকে প্রকাশে! বল, এ কোন্ আভায়

যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন, ‘কেষ্টা বেটাই চোর’

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতায় শ্রদ্ধেয় হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিশাল দুই খণ্ডে সমাপ্য ‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’ রচনা করেছিলেন। এহেন প্রামাণ্য অভিধানের পাতা উল্টে দেখা যাচ্ছে ‘ছাত্র’ শব্দের অর্থ— ‘গুরুর দোষাবরণশীল’। আর ‘গুরু’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘যিনি গর্ভধানাদি উপনয়ন পর্য্যন্ত সংস্কার করিয়া বেদশিক্ষা দেন’। গোল বাঁধছে এখানেই। আজন্ম সংস্কার

একলব্য

ডান হাতের বুড়া আঙ্গুল কতটা প্রয়োজনীয় বুঝেছিল দ্রোণাচার্য্য একলব্যের মতন আমি হারতে চাই না যুদ্ধে লিখব কবিতা, আর্য্য। কী কারণে কী ব্যথায় ডান হাতের অবশ হল বুড়া আঙ্গুলের ‘পর মায়া সভ্যতার মহারাণী কাৎরাচ্ছে একা একা কি-বোর্ড অক্ষরে জ্বর। ছন্দ-মাত্রা-অন্ত্যমিল মিলে স্নায়ুতন্ত্রে দিল টান চলে না

মেশিন

আবার প্রথম থেকে, নতুন করে লিখছি পুরোটা। বিগত সময়ের কর্মকে কেটেকুটে, ব্যাপক কাটাকাটি হলেও নূতনে রয়েছে ছাপ, পুরানের। চিহ্নিত হচ্ছে ধীরে না-লেখা কলম, তেলের কাগজ। তা-হোক, তবু আবিষ্কৃত হোক প্রকৃত যাপন… আদিম শ্রমিক আমি; মেশিন চালাই। মেশিনে লুকানো আছে পুঁজির জিন চালাতে চালাতে দেখি আমিই

বিশ্বরূপ

দু’চোখ মুড়িয়েছি রঙ্গীন কফিনে; দেখতে পাচ্ছি না কিছু, বিজ্ঞাপনে; তবু রেলগাড়ি চলে রঙ্গীন পিঁপড়ের মত। ঘষা কাঁচের আড়ালে লুকিয়ে রেখেছি সুখানুভূতি। কী হতাশার জীবন গোঁসাই! আলোরা ডালপালা ছড়িয়েছে বন বনান্তরে। চর্ব্বিত মগজের পাশে হাতঘড়ী ঝুলে আছে হৃদয়ের গোপন কোটরে। পাল্টে গেছে ঋতুবতী শৈশবের ঘ্রাণ। শুকনা