আরণ্যক টিটো (Page ১৩)

সম্পাদক— প্রকৃতিপুরুষ

গোধূলী

চিরদিন জোকার সেজে মনস্থ করে যায় আঙ্গুলের স্পর্শ তবুও নিস্তার নেই। শ্বাস ছেড়ে কুড়িয়ে নেয় আয়ু যতটুকু বেঁচে থাকে এ’সব ভান কেবল। ভানের শরীর পেরিয়ে অমোঘ সংসার নিয়ে সাদা পৃষ্ঠায় ভরে ওঠে কাঁটাছেড়া জীবন। যদিও পালানোর পথ নেই তবুও হাঁটু ভাঁজ করে খানিক নৈঃশব্দে কেঁদে

সুফিকণিকা : পর্ব্ব দুই

[শত শত বছর ধরে সুফী সাধকরা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা বলতে ছোট ছোট গল্প ব্যবহার করতেন। অল্প কথায় সহজ ভাষায় সুফী সাধকরা তাদের অর্জ্জিত জ্ঞান ও উপলব্ধির কথা জানাতে পারতেন যা হাযার হাযার পৃষ্ঠার বর্ণনায়ও হয়ত দুঃসাধ্য। আমার সংগ্রহের সেইসব জ্ঞান ও উপলব্ধির কয়েকটা এখানে

প্রসঙ্গ : মৌলবাদ

গোড়ার কথা— এই শতাব্দীর সবথেকে সাড়াজাগানো পরিভাষাগুলোর মধ্যে একটি হল ‘মৌলবাদ’। এ যবে থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তবে থেকেই ধিক্কৃত-অপমানিত-লাঞ্ছিত হয়ে আসছে। এর কথা শুনলেই বিষ্ণু শর্মার লোকেরা মুখ ভেঙচিয়ে বলে, ‘না না, আমরা তো ওর পূজো করি না, আর আমরা কোন দায়েই বা ওকে ‘নমঃ

ঘুম

বুকের ভিতর একটা ঘুঘু হুহু করে কাঁদে। কোমল হাতে নরম পালকের ভিতর সূর্য্য জ্বলে ওঠে। স্পর্শ পেয়ে সে আরো কাঁদে। বুকের ভিতর ঝাপটে ধরি যদি কান্না থামিয়ে ফিক করে হেসে ফেলে আদুরে পাখিটা। দূরে আরো দূরে আল্লাহ আল্লাহ জিকিরে কলরব তুল্‌ছে হুজুর। কান্না মুঠোয় নিয়ে

বাঙ্গালাভাষার বানান-সমস্যা সমাধানের পথ (১ম খসড়া)

এক — বাঙ্গালাভাষার বানানে ব্যাপক নৈরাজ্য দেখে রবীন্দ্রনাথ তা দূর করার কথা ভাবেন ১৯৩৫ সালে। নিজেই তা দূর করবেন, এমন সময় বা উপায় নিশ্চয় তাঁর হাতে ছিল না। তাই তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য্য শ্রীযুক্ত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মহাশয়কে এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে অনুরোধ করেছিলেন।

ভাষা

‘ভ’ বর্ণের অর্থ ভাতি যুক্ত যে অর্থাৎ যে সত্তা অস্তিত্বলাভ করে দীপ্তমান। ভ-এর আধার— ‘ভা’ ভা-এর দিশাগ্রস্থ বিচ্ছুরণ— ‘ভাষ’ ভাষ-এর আধার— ‘ভাষা’ অর্থাৎ যে কোনো শোভমান সত্তা নিজেকে যে সব শব্দ, রস, রূপ বা গন্ধের মাধ্যমে প্রকাশ করে তাকেই তার ভাষা বলা যায়। তাই পাখীর

টক, টাক, টুকটাক

বৈশাখ মাস, গাছভর্ত্তি কাঁচা আম। তন্ময় আর তার চাচাতো ভাই তমাল এসেছে কাঁচা আম পাড়ার জন্য, বিজলী আপু কাঁচা আমের ভর্ত্তা খেতে ভালবাসে। কাঁচা আম কুঁচিকুঁচি করে কেটে রসুন কাঁচামরিচ লবন সর্ষে তেল মেখে এমন ভর্ত্তা বানায়, কেবল খেতেই মন চায়। পালদাদা কোথা থেকে আসছিল,

শূন্যের সমীকরণ

আচ্ছা স্যার, মানুষ এতটা অসুখী হয় কেন? সবাই সুখী হতে চায়, তবে সবাই হয় না কেন? — বলল বদরুল। স্যার কিছুক্ষণ মৌন থেকে চায়ে চুমুক দিয়ে বলল— আমরা নিজের নয় অন্যের সুখেই অসুখী হই বেশী। আসলে মহাবিশ্বে এমন কোন উপাদান নেই যা সুখী বা অসুখী

চিনিফানা : ফানাফিল্লা তত্ত্ব ও বিবিধ নির্য্যাস

… রচয়িতা মারা গেছে সৃজন বর্ষায়, খুঁজেও পাবে না তাকে জলের বাসরে! … জলের হৃদয়ে মিশে চিনি হল ফানা! মিশে জলজ তরলে হল গো সরলা! হল আমা হতে তুমি— আমি, তুমিময়! … বন্ধু, আমি কি তোমাকে চিনি, চিনির প্রকারে, চায়ের লিকারে? বল, কী ভাবে মিশিবে

ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়

বাউল সম্রাট আব্দুল করিমের এই গানটা কে না শুনেছে! আবহমান ভাটি বাংলার জীবনযাত্রা এই গানের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। একটা নৌকা— নদী বেয়ে চলে, সেই নৌকার শুরু থেকে শেষ পর্য্যন্ত যেন একটা জনপদেরই জীবনযাত্রার কাহিনী। ছোটবেলা আমরা রচনা লেখেছি নৌকা ভ্রমণ। না বুঝেই লিখেছি, মুখস্ত লিখেছি।

কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন

            “কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন।              রূপ দেখে দেয় বুক পেতে শিব যার হাতে মরণ বাঁচন।              আমার কালো মেয়ের আঁধার কোলে শিশু রবি শশী দোলে;

সমকাল ও শিক্ষা

অন্য বাবা মায়েরা সন্তানদের অনেককিছু দিতে পারছে, আপনি পারছেন না বলে inferior complexityতে ভুগছেন? আপনার সন্তান ফার্ষ্ট হয়নি বলে হতাশ? ভাবুন তো, নিজে যে আজ এত প্রতিষ্ঠিত, ছোটবেলায় কয়মাইল পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে, কলেজে গিয়েছেন? এত রকমারি জুতা, জামা, প্রসাধনী, যানবাহন ছিল তো? মাথার উপরে ফ্যান