আরণ্যক টিটো (Page ৫)

সম্পাদক— প্রকৃতিপুরুষ

চেয়ার

একটা চেয়ারের জন্যই তো এতো সভা, মিছিলের আযোজন। অথচ একটি চেয়ার যেটা কিনা মৃত ডালের তৈরি, তার সোনালি শৈশব ফেলে এসেছে বৃক্ষের পরিবারে, এখন সে নিস্প্রাণ, উবু হয়ে বসে আছে। কোন অভিযোগ নেই, চাহিদা নেই, ঘুরছে অনবরত এ অফিস থেকে ও অফিসে… কর্তার মর্জিমতো… একদা

প্রেম শুধু ডুপেমিন নয়

৮.২ সেকেন্ড কোন রমনীর দিকে গভীর দৃষ্টিতে থাকালেই যদি পিটুইটারি গ্রন্হিতে প্রেমের রসায়ন শুরু হয়, তাহলে এরকম শেক্সপীয়ারিয়ান লাভ তো কতো সহস্র জনের জন্যই ছিল, সে খবর কী রোমিও-জুলিয়েটরা জানে? সত্যিই যদি প্রেম শুধু ডুপেমিনের খেলা হতো, সমাজ আমার এ অপকর্মের জন্য কয়েক’শ ক্যারেকটার সার্টিফিকেট

ঝরা পাতার কবিতা

প্রিয় কবিতা, তুমি একটু সেলুলয়েড জগত থেকে ফিরে এসে দেখো। কয়েকটা গুচ্ছ কৃষ্ণচূড়া ফুল, দোকানের কাছে গুটিকতেক গোলাপের উপচে পড়া ফুলের ঢেউয়ে, তুমি ভেসে যেওনা। তারা তোমাকে সুন্দরের সংজ্ঞা শিখাবে না, তারা তোমাকে জীবন দেখাবে না। গাঢ় কালচে সবুজের দিকে তাকাও, চারপাশে ন্যাড়া বৃক্ষগুলোর দিকে

এক নিশীথের মিথ্যা

কিছু কিছু মিথ‍্যা আছে সত‍্যকে বাঁচায় কথায় বলে না— চাচা আপন পরাণ বাঁচা সবাইতো জানি— জান্ বাঁচানো ফরজ! আজ যদি সত‍্য বলি এক নিরীহ প্রাণের দফারফা হবে ঘরণীর ধ‍্যাঁতানির চোটে অবশিষ্ট মাথায় যে’কটা চুল মায়াদয়া পিছুটান ছাড়া তাও ঝরে যাবে সহসাই— কড়া নাড়বার আগে ঠিক

স্মার্টকার্ড

পাখিদের কোথাও উড়ে যেতে স্মার্টকার্ড লাগে না, গোলাপেরা মাখে না আলাদা সুগন্ধি বা আতর, একমাত্র মানুষেরই সব লাগে- যেকোন ভূখন্ড বা হৃদয়ের অলি গলিতে পৌঁছতেও এখন দরকার পাসপোর্ট, ভিসা কিংবা স্মার্টকার্ডের, কেননা কেনা বেচার এ যুগে, মাংসাশী প্রাণিদের বাজারে, হৃদয়ও আজকাল নিলামে বিক্রি হয়, এখন

অ্যাবসার্ডিটীর আলোকে ‘ওয়েটিং ফর গডো’ ও ‘কালবেলা’

Absurd এর বাঙলা প্রতিশব্দ উদ্ভট। সঙ্গীতের ভাষায় Absurd অর্থ বেসুরা। সাহিত্যে Absurd তত্ত্ব জনপ্রিয়তা পায় নাট্যকার স্যামুয়েল বেকেটের (১৯০৬-১৯৮৮) মাধ্যমে। এছাড়াও ইউজিন আয়োনেস্কো, আর্থার এ্যাডামভ, এডওয়ার্ড এ্যালবি, হ্যারল্ড পিণ্টার, ফার্নান্দো এ্যারাবাল Absurd নাটকের ধারায় প্রধান নাট্যকার। তবে Absurd নাটককে তত্ত্বাকারে প্রতিষ্ঠা দেন হাঙ্গেরীয় সমালোচক মার্টিন

সবুজ ডায়েরী

ক্যাম্পাসে গেলাম। সহপাঠী ইসরাত জাহান তানিয়ার সাথে দেখা হৈল। বল্‌ল, তুই ত ক্যাম্পাসের বিরাট তারকা, প্রথম আলোতে দেখ্‌লাম। — তাই নাকি? — হুঁ। — আমিও দেখেছি। গান-বাজনা করে ক্যাম্পাসে পৌঁছলাম। ঝুপড়ীতে হায়দায় ভাইয়ের দোকানে বসলাম। (ব্রিটিশ কাউন্সিলের দেয়া) ব্যাগটা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন কর্‌ল। ব্যাগটা কাঁধে

বুদ্ধ

বুদ্ধ, তুমি কি পাথরের ওপর আসন গেড়ে বসেছিলে? গাছগুলো মেঘ ছুঁয়েছে বিস্তীর্ণ তৃণভূমী থেকে হরিণেরা খুঁটে নিচ্ছে ঘাস সূর্য্যালোকের অস্পষ্টরেখা ছুঁতে কিভাবে তুমি একটা হাত না বাড়িয়ে থাকতে পার? বুদ্ধ তোমার মাথার ভেতর যে দেবতা নড়েচড়ে ওঠেন, মহান যোদ্ধা যুদ্ধের আগে ধনুর্বাণ বাঁকা করতে চায়

নিউ নর্মাল ধরিত্রী

দিনরাত একাকার হয়ে গেছে। জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছে সময়। ঘড়ির বুকের খাঁচায় ঘণ্টা মিনিট সেকেণ্ডের কাঁটাগুলো একগুঁয়ের মত ঠুসে গেঁথে আছে। প্রায় অচল। এগুচ্ছে কি! মনে হয় না। রুগ্ন নিথর আর সন্ত্রস্ত সময়ের উদ্বাহু যাপন চলছে পৃথিবীতে। কিন্তু আর কতদিন! আর কবে এ বনসাই

শিশুকাল

বড়োদের শিশুপাঠ থেকে শিখেছিলাম অ-তে অজগর… আর ভূগোল পড়েই জেনেছি, পৃথিবীতে নিঃসঙ্গতার চে’ বড়ো কোন সাম্রাজ্য নেই, বর্বরতার চে’ বড়ো কোন শাসক নেই। তাই এখন শিশুদের কাছে শেখার পালা। দেখা যাক তারা কী পছন্দ করে? দেয়াল? নাকি দিগন্ত? ইটের শিখর? নাকি ঘাসের শেকড়? একবার তাদের

আফটার আওয়ারসে মিনি ব্রেকফাষ্ট আড্ডা

তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান এসেছেন শীতকালীন অবকাশে তীব্র শীতের দেশ তুরস্ক থেকে অল্পশীতের দেশ বাংলাদেশে। তাকে উষ্ণ আমন্ত্রণ জানাতে আফটার আওয়ারসে মিনি ব্রেকফাষ্ট আড্ডার আয়োজন করলেন কবী ও ভ্রামণিক মাহমুদ হাফিজ যিনি এই তো সেদিন মান্যবর রাষ্ট্রদূতের ততোধিক উষ্ণ আতিথেয়তা পেয়েছেন কেবল ইস্তাম্বুল

দ অথবা বর্ণহীন ও অন্যান্য কবিতা

দ অথবা বর্ণহীন কালো—— আলো বসিয়ে আন্ধাগুন্ধা ব্লেড ঘুরাচ্ছে আলো ঘুরাচ্ছে—— গোপন খুন। ফোঁটা ফোঁটা ফিনকি ফিনকি ঝরছে সাদা- রুধির। আলো—— শব্দহীন চিৎকার গোঁ গোঁ গোঙ্গানো পার্শ্ববর্ত্তী শীৎকার রস রক্ত গড়িয়ে আসছে; বেগে আসছে কামজাত চিৎকার— শীৎকার— শীৎকার— চিৎকার— এ লীলা হেরিলে কালো আলো হয়ে যায়;