আরণ্যক টিটো (Page ৬)

সম্পাদক— প্রকৃতিপুরুষ

বৃষ্টিকে মনে হয় হানাদার

যুদ্ধ কোন সহজ ঘটনা না। অস্ত্রকারবারীদের নির্ম্মম খেলা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল আমাদের ওপর। কর্ণফুলী পেপার ও রেওয়ান মিল অবাঙ্গালী দাউদ কোম্পানীর সম্পত্তি হওয়ায় যুদ্ধের শুরুতে সেনাবাহিনী চন্দ্রঘোনায় ঘাঁটী গাড়ে। মিলগেটের তল্লাশি এড়ানোর জন্য মা আমাদের নিয়ে স্কুলের পিছনের পাহাড় ডিঙ্গিয়ে নিস্তব্ধ বনপথে দোভাষী বাজারের দিকে

তোমার জন্যে

আজ সবাইকে ছুটি দিলাম যাও বিশ্বাস না হয় দেখ, পথে তাকিয়ে? একটা মাত্র গাড়ী, হোম ডেলিভারী বাকি সবাই ব্ল্যাংকেটের তলায় বাড়ী বাড়ী বাজাতে পার ডোরবেল, দরজা খুললে আমায় দেখিয়ে দিও। সত্যি বলছি, সবাইকেই ছুটি দিয়েছি আজ পথগুলো সব কেবল আমাদের বল, কোনদিকে যাবে, পূব পশ্চিম?

শীতল আগুন উষ্ণ আগুন

সায়ন্তিকাকে যেদিন হঠাৎ দুপুর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, সেদিন শুধু সায়ন্তিকার ঘরেই নয়, বরং পাড়াতেও রীতিমত আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। কী ব্যাপার! কথা নেই বার্ত্তা নেই মেয়েটা বেমালুম কোথায় উধাও হয়ে গেল! খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সেদিন কলেজে অনার্সের কোন পিরিয়ডেই সে উপস্থিত ছিল না।

ভাষা, সংস্কৃতির বৈষম্যে সমাজের অবক্ষয়

  গতকাল (টিএসসি) শাহবাগে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সংখ্যক ছাত্রের উদ্যোগে আয়োজিত কাওয়ালী কনসার্টে হামলায় যতদূর বুঝতে পারছি এটা ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার এবং বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা ছিল ওমিক্রনের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গণসংযোগ এড়াতে। বাংলা ভাষা আন্দোলন ছিল ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৬ পর্য্যন্ত তৎকালীন পূর্ব্ব বাংলায় (বর্ত্তমান বাংলাদেশে) সংঘটিত

তমসাপ্রবঞ্চনা কাব্য থেকে নির্ব্বাচিত কবিতা

জ্যোৎস্না দর্শন এলাচের সুঘ্রাণ নিয়ে মাঠে-ইঁদুরের দেহের মতন আর্দ্র মাটীতে হেলে পড়ে চাঁদ, শীর্ণ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ভেসে যায় পরিযায়ী মেঘ, বাতাসের সেকি আর্ত্ত-করুণ সুরে সুরে আমাদের অস্থী ও ত্বকে আঙুল বুলিয়ে যায় স্মৃতি, কাকে আর ডাকব বল? বহুদিন আগে মরে গেছে, শুকনা ঘাসের ওপর

সুফিকণিকা : পর্ব্ব তিন

[শত শত বছর ধরে সুফী সাধকরা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা বলতে ছোট ছোট গল্প ব্যাবহার করতেন। অল্প কথায় সহজ ভাষায় সুফী সাধকরা তাদের অর্জ্জিত জ্ঞান ও উপলব্ধির কথা জানাতে পারতেন যা হাযার হাযার পৃষ্ঠার বর্ণনায়-ও হয় ত দুঃসাধ্য। আমার সংগ্রহের সেইসব জ্ঞান ও উপলব্ধির তৃতীয়পর্ব্ব

সভ্যতার শুরুতে

লোকটা ঠিক সন্ধ্যা ছয়টা তিন মিনিটে চিৎকার দিয়ে ওঠল, আমার টাকা কেন দিবি না! চারপাশে এমনিতেই গাড়ী ছিল না, তবুও যেন ঠিক সন্ধ্যাটা একটা নিঃস্তব্ধতায় আটকে গেল। টক স্বাদের সন্ধ্যা। মাগীর পুত টাকা দে মাগীর পুত, লোকটার চিৎকারে আবার নিঃস্তব্ধতা ভাঙল! সবাই ফিরে তাকায় তার

প্রথম তুষার

আকাশ ভেঙ্গে রূপার গুঁড়ো, দিনভর শ্রবণাতীত তরঙ্গে অবিশ্রান্ত রূপা বৃষ্টি জমে উঠছে একটা রূপালী রূপকথা জানালায় তুষারবৃক্ষ, কী নামে ডাকি তোমায়? হিমাঙ্ককে পেরোয় অভিলাষী উল্টোরথ জলের ওপর অপরূপ ক্রিস্টাল ফুল! দূরে হ্রদের জলে সূর্য্যের প্রতিশ্রুতি, উষ্ণতার খোঁজে ডলফিনেরা জটলায় … দলছুট মীনশিশু সাঁতরায় সূর্য্য বরাবর

দূরভাষ

মৌতাত তোমার ফিকে হয়ে আসে ভোরের উজ্জ্বল রশ্মি চোখ ছুঁতেই সন্ধ্যে রাতের ঝুমঝুম মগ্নতার ভেতর ততোধিক মগ্ন স্মৃতিভ্রমণে কতটা মাখামাখি হয়েছিল ইচ্ছে পদক্ষেপগুলো, ভুলে গেছ বেমালুম! দূরভাষে দূরবর্ত্তিনী, বলে গেছ অতীত ছেঁকে এনে এক একটা উপকথা, নেশাঘোরে এক একটা কলি, চেনা সুর যেন হঠাৎ মনে

রেহানা মরিয়ম নূর : একজন দর্শকের চোখে

রেহানা মরিয়ম নূর দেখ্‌লাম, এই প্রথম বাংলাদেশের কোন সিনেমা দেখে সিনেমা সিনেমা লেগেছে— সিনেমা দেখ্‌ছি মনে হয়েছে। সেক্স আর ভায়োলেন্স, উদ্ভট সাজপোষাক, অপ্রয়োজনীয় চিৎকার, অকথ্য ভাষায় গালাগালি এইসব বাদ দিয়েও শুধুমাত্র একটা টপিকে ফোকাস করে একটা চরিত্রকে প্রধান করে তাহার চারপাশের বাস্তবতা, সমাজ, রাজনীতি কতটা

এরোমা থেরাপী

ঐ বরাবর দূরের হুইসেল, রঙীন পপলার অদেখা স্টেশন ছোঁয়া ঝাপসা রেললাইন সুখী মেঘেদের ক্লান্তিহীন নিঃসরণ… ডাক পাঠিয়েছিলে কাল, আজ ডুবসাঁতার এপাশে হাইরাইজের কাঁচে আকাশের আহাজারি কালকের চিরকুট আজ ঝড়ো হাওয়ায় ফেরার! সান্ত্বনা, পাইন অনুরাগমাখা পথ পুরাতনী, ফরাসী সৌরভ ছাপিয়ে প্রশ্বাস টুইটুম্বুর ফিরে আসি মন্থর পায়ে

দশ টাকা ও দৃষ্টিপাত

দশ টাকা মালিবাগে মালী নাই, ভাবলাম ঘরে ফিরে যাই— চালককে বললাম — বৌদ্ধ মন্দিরে যাবেন? — যাব — ভাড়া কত? — দিয়েন চল্লিশ — কম চাইলেন! চিনেন তো? — চিনি, সবার কাছে কি সমান চাওয়া যায়! ওইখানে মহামতি বুদ্ধের নিবাস চাতকের ভিড় খুঁজে ফিরে দর্শনের