আরণ্যক টিটো (Page ৭)

সম্পাদক— প্রকৃতিপুরুষ

তিনটা কবিতা

ক্ষত বিষয়ক সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা ভাবছি, ক্ষতটা সেলাই করে নেব; হাত দুখানি জুড়ে দেব আর দুখানি হাতে। ব্যাক্তিগত হতে হতে ক্রমান্বয়ে বিষিয়ে উঠছি নিজের কাছে— এপারের নুড়ীগুলো কান পেতে থাকে ওপারের বালিদের আলাপনে— হাত বাড়ালেই বুঝি লোপ পাবে দূরত্বটুকু— বেজে ওঠবে সমবেত কোলাহল— পলির কারুকাজে

গ্রহণ

ছয় ছয় শতাব্দী চলে যায় … ঘুম শহরে আজ দীর্ঘতম গ্রহণ! চাঁদের গায়ে পৃথিবীর ছায়া! গাড়ী পুল ওভার কর, মুগ্ধ মায়া! ‘হ্যালো, ব্যাকইয়ার্ডে যাও, এখুনি!’ ঘুমচোখ, পাইন ঝোপে শিরশির হাওয়া আকাশে গ্রহণের অর্দ্ধেক পূর্ণিমা … গ্রহণে ছায়াময়ী চাঁদ, সুবহেসাদেক! তুমি কি গ্রহণ আমার নাকি সূর্য

আমপাতা ও নীল শাড়ী

বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফির্‌ছিলাম। বাঙ্গালাদেশের ওপর বিমাণ পৌছানোর পর সারাক্ষন জানালা দিয়ে বাঙ্গালাদেশের নদী আর সবুজ দেখ্‌তে দেখ্‌তে ইমোশনাল হয়ে যাচ্ছিলাম। বিমাণের চাকা যক্ষণ ঢাকার রানওয়েতে নাম্্‌ল, তক্ষণ আর ইমোশন ধরে রাখ্‌তে পারলাম না। চোখ দিয়ে তক্ষণ টপ্ টপ্ করে পাণি পড়ছিল। আমার

বাঁক

আঁ-কা-বাঁ-কা সবুজ মাঠের পথ ধরে হেঁটেছি কেবল, উজান ভাটির ব্যাকরণে শুনি নাই জলের কাকলি। (…) এটুকু বুঝিনি, কতটা আঘাত পেলে বাঁক নেয় নদীটার মন, অভিমানে সরে সরে যায় নদীয়ার কূলে, জলজ ভাষায় ভেসে ভেসে যায় কাঁখের কলসী, কূলের কথণে ভেসে ভেসে যায় ঘাটের কাহন, মরমিয়াগাথা

নলখাগড়া ও কলম

চমৎকার একটা বিকাল। বাড়ীর বলতে গেলে সবাই উঠানে বের হয়েছে। ওদিকে ছোটচাচার ছেলে তপুকে নিয়ে তন্ময়ের বড় আম্মা আর আম্মা পড়েছে। প্রায় শুকনো উঠানের মাঝখানে ঝাঁট দিয়ে পরিস্কার করা হয়েছে। তারই ওপর কাঠী দিয়ে দাগ টেনে অক্ষরের মত লেখা হচ্ছে, তপুকে শেখানো হচ্ছে কীভাবে লিখতে

বিদ্রোহ

হাতটী মাথায় রেখে আশীর্বাদ কর অবলীলা, আমাকে আরেকবার ছুঁয়ে যাও— কবী নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার সারবত্তার ভিতর দিয়ে আমাকে হাঁটিয়ে আন স্পার্টাকাসের শরীর থেকে হাড় এনে শল‍্যচিকিৎসায় গেঁথে দাও মেরুদণ্ডে। আপোষকামিতার নির্লিপ্ত ঘেরাটোপে বন্দী ঘোর অমানিশা সময়ের অন্ধকারে মশাল মিছিল সত‍্য— বর্শাবিদ্ধকালে প্রতিবাদ ছাড়া অন‍্য কোন

নিজের তিরাসের কাছে

নিজের তিরাসের কাছে আমি তো নগন্য মানুষ একটা বুঝি বা না বুঝি তা’রি ইবাদত করি সকাল বিকাল মনে মনে বানানো সুরতের আদলে নিরাকার পাথর ভাঙ্গি চাইরদিকে উড়াই কা’র ছায়ারে কে ফালায়া যাইতেছে পথে দূরে যাইতে যাইতে ফসলের বাঁসে ফিরে যারা তারারেও দেখি চায়ের দোকানে বসি

পৎ থেকে পাতাল

মা এসেছিলেন, লকডাউন কিছুটা শিথিল হতেই তড়িঘড়ি চলে গেছেন, বাড়ী ছাড়া উনার ভাল লাগে না। রিণির তাই ভাল লাগছিল না, আজ অফিস বন্ধ, কিন্তু বাসায় বসেই অনলাইনে কিছু কাজ সারতে হবে। জানালার পাশে সেই কখন থেকে দুইটা টুনটুনী ওড়াউড়ি করছে, রিণি একমনে তাই দেখছিল। কলিংবেলের

সোনারঘাট

খুলনা থেকে একজন সাঁতারের প্রশিক্ষক এসেছিলেন আমাদের ছোট শহরে। সুমিত্রা পাল ম্যাম। সপ্তাহের তিনদিন উনি আমাদের খোলা ভ্যানে তুলে সহর (শহর) ছাড়িয়ে যেখানে নদী বেশ চওড়া সেখানে সাঁতার শেখাতে নিয়ে যেতেন। আমরা সাঁতার ম্যামের ঘাড়ে পিঠে চড়ে হইহই করে সাঁতার শিখতে চলে যেতাম। কখনো নদীর

হাজার বছরের বাঙালী

ভীতু বাঙালী, ‘থিতু’ বাঙালী, হুজুগে বাঙালী, সাম্প্রদায়িক, পরশ্রিকাতর, কখনও ধর্ম্মপ্রবণ তো অপরাধপ্রবণ। একদিকে যেমন অতিথিপরায়ণ, আবার অকৃতঘ্নও বটে। মানুষের বিপতে (বিপদে) এগিয়ে যায়, আবার ভাই ভাইয়ের, প্রতিবেশীর রক্ত ঝরাতেও দ্বিধাবোধ করে না। বাঙালীর এই চিন্তার মানসপট বুঝতে হলে হাজার বছর পিছনে যেতে হবে। প্রাচীন এই

হাসান আজিজুল হকের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান ও রবীন্দ্রনাথের “আগুনের পরশমণি”

হাসান আজিজুল হকের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান রবীন্দ্রনাথের “আগুনের পরশমণি” গানের মধ্য দিয়ে উৎযাপনের সমালোচনা হচ্ছে ইসলামী মহল থেকে। সেকুলাররা রবীন্দ্রনাথকে মনোপোলাইজ করার কারণে ইসলামিস্টরা রবীন্দ্রনাথকে শত্রুতার কাতারে দেখে। এই প্রতিক্রিয়া দিয়া রবীন্দ্রনাথকে বোঝা মুশকিল। আর সেকুলাররা যদি মৃতদেহ সৎকারকে সেকুলারাইজ করে তাতে আপত্তি কেন? তারা কি

ক্রিষ্টোফার কলম্বাস এবং অপ্রিয় কথা

উত্তর ঔপনিবেশিক ধারণা গড়ে ওঠেছে মূলতঃ গত শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্দ্ধ থেকে, এটী যেমন বহুল সমাদৃত আবার ঠিক তেমনভাবেই বহুল বিতর্কিতও! এর ইংরেজী প্রতিশব্দ Post Colonialism, অর্থাৎ উপনিবেশের পরের অবস্থা। এর থেকে একটা একটা ধারণা মেলে যে উত্তর ঔপনিবেশিক মতবাদ একটা নির্দ্দিষ্ট সময়ের কথা বলছে, পাশাপাশি এটাও