আরণ্যক টিটো (Page ৮)

সম্পাদক— প্রকৃতিপুরুষ

পড়ে থাকা পাতা

পড়ে থাকা পাতা দেখে গাছ হলুদ শরীর কিছু পতনের চিহ্ন দুঃখের নিরালা এক ফোঁটা দীর্ঘশ্বাস বাকী সবুজ পাতার আগাম শুন্যের গান পাতাদের ডাক বেদনার ঘুমের আউলিতে কিছু কুঁড়ি মু‘ছতেছে পতনের আহাজারি বিচ্ছেদী টান ছিঁড়াবিড়া পাতা পইড়া থা‘কতেছে উ‘ড়তেছে, পু‘ড়তেছে না-দেখা আগুনে গাছ ফিরে গাছের ভিতর।

র‍্যাগ ডে এবং সংস্কৃতির সঙ্কট

এই দেশের সিংহভাগ আলেমশ্রেণী ইসলামী সংস্কৃতিকে বিদ’আত বলে যতৈ দূরে ঠেলে দিচ্ছে পশ্চিমা অপসংস্কৃতির আগ্ৰাসন ততৈ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংস্কৃতিহীন কোন জাতি বাঁচিতে পারে না। আর বছরে দুই ঈদ দিয়ে সংস্কৃতির অভাব পূরণ করিতে বলা নিছক বোকামি বৈ’ ত কিছুই নয়। দেখুন, এই দেশের ছাত্ররা আগে

ক্লাইভের চেয়ারের নীচের রাইত

ক্লাইভের চেয়ারের নীচে জমছিল যেই রাইত দু্ইশত চৌষট্টি বছর আগে তা’র কতক আন্ধাইর আইজো আমাদের ‘একাডেমিক’ চেয়ারের পাছায় কলাভবনের খাঁজে লাইব্রেরির সেলফে ঝুল্লু খায় সে’ এক দেশী বিলাইর কালা মুখ নিরাকার ইঁদুর বিলাই খেলে সে’ চতুর আমাদের আম জাম কাঁঠালের উঠ্‌তি চারাগুলোর লগে সোনারইদে ঝলঝলা

মানবশরীর ও বর্ণমালা

এই নিবন্ধে বাংলা বর্ণমালার বর্ণের আলোয় মানুষের শরীরে বিভিন্ন অংশ এবং জীবনদর্শনের আলোচনা করার চেষ্টা করব। শরীরের প্রতিটী অংশের নাম তার কর্ম্মানুসারে হয়। প্রথমে মাথা দিয়ে কথা শুরু করি। মাথা শব্দে ম বর্ণে সীমায়ন, থ বর্ণে থাকন, আ বর্ণে আধার বুঝা চলে। মা (সীমায়িতকরণের আধার)

আমার নাম ফিলিস্তিন

আমার নাম ফিলিস্তিন, আল-আকসা মসজিদ আমার লজ্জাস্থানের মত পবিত্র তবুও ইসরায়েলের হাত কমলার কোয়া থেকে রক্তজবা ফুল তুলে আর আপেলের শরীরে ভুল করে আঁকা শব্দের মত কাটাকাটির দাগ বসিয়ে দেয় পরম নিষ্ঠুরতায় … আমি ফিলিস্তিন, আকাশের তারায় আগুন জ্বলে; রাত হয়ে ওঠে কেয়ামত— তক্ষণ খিদের

একথোকা ছোট গল্প

ধর্ম্ম কাপড়ের দোকানে এক সাথে দুইজন লোক আসলেন। দুইজন লোকই আচরণে অতিশয় ভদ্র এবং রূপে মার্জ্জিত। দুজনের চেহারাতেই পূর্ণিমা রাত্রীর আলো জ্বল জ্বল করছে। দোকানে একসাথে ঢুকলেও বুঝা যাচ্ছে উনারা পূর্ব্বপরিচিত নন। আশ্চর্য্যের বিষয় হচ্ছে দু’জনই একটা থান থেকে সেলাইবিহীন ধবধবে সাদা কাপড়ের এক টুকরা করে

তলস্তয়ের দেশে বলশেভিক বিপ্লব

ক’ বছর আগে প্রতিচিন্তার ২০১৭ সালের একটী সংখ্যায় বদরুল আলম খানের একটী গদ্য পড়ার মওকা মিলেছিল। লেখাটী আমার এত ভাল লেগে যায় যে, এখনও সময় পেলেই উল্টে পালটে দেখি। প্রবন্ধটীর নাম ‘তলস্তয়ের দেশে বলশেভিক বিপ্লব’। সুবিদিত যে, নামের মূল্য নামমাত্র। কিন্তু আমার মনে এ ধরণের

অনাথ ও পরাগ

অনাথ চাতকের জল পিপাসায় আমারি জন্মদাগ, অথচ হাত থেকে খসে পড়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, প্লেটোর ধারণা … অচিন পাখীর খাঁচাটা ভাঙ্গা হৈল না আর শিরদাঁড়ার প্রকারভেদে সেই জলাজমী নিরম্বু অস্তিত্বের কাছে পথ দু’ভাগে বিভক্ত— এক : সপুস্পক, দুই : অপুস্পক … দুঃসময় থেকে যে শিশু বেরিয়ে আসে

পরমাভাষার সংকেত এবং পাঠ উত্তর ভাবনা

আসা যাওয়ার পথের ধারে! কলিম খানের নাম শুনেছি মাত্র বছর কয়েক আগে। ওঁর লেখার সাথে আমার সম্পর্ক ছিল প্রায় ক্ষীণ। প্রিণ্ট পত্রপত্রিকা, ওয়েব ম্যাগাজিনে কলিম খান ও রবি চক্রবর্ত্তী সম্পর্কে মাঝে মধ্যে উচ্ছ্বসিত কিছু লেখা পড়তাম। অই পর্য্যন্ত। জ্ঞান সমুদ্রের ধূলিকণার চাইতেও আমি তুচ্ছ, অজ্ঞান।

পাগলের পাগলদর্শন : পাগলের পরমার্থিক চরিতমানস

কোন এক পাগলের কাছে শুনেছিলাম গল্পটী— একদা এক রাজা স্বপ্নে দৈববাণী পেল— ভোরে রাজ্যজুড়ে বৃষ্টি হতে চলছে আর সে বৃষ্টির জল পান করলেই লোকে পাগল হবে। রাজার ঘুম ভাঙল— হায় হায়, এ দেখি ভোর হয়ে এল! … আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, মূহুর্ত্তেই বুঝি বৃষ্টি নামে! পুকুরগুলোই রাজ্যের

মাটিতে নামো, হে ঈশ্বর

পাথরের তলে ঘুমিয়ে থাকে যে জল আমি তার বুকে কান পেতে শুনি বয়ে চলা আদিম কথা। দেখি মরুঝড়ে শীর্ণ আদম গড়িয়ে এসেছে অন্নপূর্ণার দুয়ারে— ক্লিষ্ট দুখানি হাত জুড়ে গজিয়ে ওঠেছে কাঁটাগাছ, ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে বাঁধা সূর্পণখার লাল কাঁচুলী থেকে ভেসে আসে খাণ্ডব ঘ্রাণ, পাথরে কপাল ঠেকিয়ে

নবনীতা জলের বোধন

নবনীতা জলের বোধনে যে নিজেকে ভেজায় না, সে সংঘাতকে জাগাতে জানে না! … যে সংঘাতকে ভালবাসে না, সে সম্ভাবনাকে বলতে পারে না, ভা-ল-বা-সি! … ভুল ও ফুলের গলায় গলায় ভাব, পরাগায়ণটুকুর অনুধ্যানে হতে পারে না পথের সমাজদার! … এইটুকু ভেবে ভেবে হাঁটছিলাম, মৌমাছির ইন্ধনে! …