আরণ্যক টিটো (Page ৯)

সম্পাদক— প্রকৃতিপুরুষ

ধর্ম্ম শব্দের অর্থ কী?

ধর্ম্ম শব্দের অর্থ কী? ১) ব্যুৎপত্তি নির্ণয়— ধৃ + ম (মন্)— কর্তৃবাচ্যে। (বঙ্গীয় শব্দকোষ, হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়— সংক্ষেপে ‘ব.শ.’।) ২) ক্রিয়াভিত্তিক-বর্ণভিত্তিক অর্থ— ধর্ মিতি মিত যাহাতে। (বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ, কলিম খান ও রবি চক্রবর্ত্তী— সংক্ষেপে‘ব.শব্দা.’)। শরীরসাধন যে কর্ম্মের অপেক্ষা করে। (অমরকোষ)। লোকধারণ করে যে। (ব.শ.)। ৩) অভিধানাদিতে

তিনটা ‘ট্যাঙ’ কবিতা ও ভূমিকা

ভূমিকা— ট্যাঙ ডাইনেস্টির (৬১৮—৯০৭ খ্রিস্টাব্দ) সময়কে বলা হয়ে থাকে চৈনিক কবিতার স্বর্ণযুগ। চৈনিক ইতিহাসের মহত্তম কবিতাসমূহ ট্যাঙ রাজবংশের এই তিন শতাব্দী সময় জুড়ে রচিত হয়েছে। এবং প্রায়শই বলা হয়ে থাকে তিন থেকে চারজন কবিশ্রেষ্ঠ এই যুগে বসবাস করতেন। ওয়াঙ হান, কুই হু, এবং লি বাই-এর

সবুজ হোটেল

আজ থেকে পঁচিশ বছর আগের কথা। এক বহুজাতিক সার কারখানায় ট্রেনিং ম্যানেজারের চাকরী নিয়ে চট্টগ্রামে গিয়েছি। থিতু হয়েই চট্টগ্রামের কবীদের খুঁজতে শুরু করলাম। মোবাইল ফোন ও ফেসবুক কোনটাই ধরাধামে তখনো আসেনি, যোগাযোগের উপায় চিঠি ও ল্যান্ড টেলিফোন। তখন খোঁজ পাই কবীদের আড্ডাস্থল চকবাজারের এক রেস্টুরেন্ট,

রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রসঙ্গে

শিল্পের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? নিশ্চয় এর সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে। একটা কথা হয়ত বলা যায় General Discussion-এর মাধ্যমে কিন্তু কোন কিছু না বলেই ভাবের প্রকাশ একমাত্র শিল্পের দ্বারাই সম্ভব। মানুষের মুক্তি, অসহায়ত্ব কিংবা আনন্দ-বেদনা যখন কবিতা, গানে কিংবা নাচে ফুটে ওঠে, তা তখন General Discussion লেভেলে থাকে না,

নিশীর ডাক— নতুন ব্যাকরণ চাই

প্রসঙ্গ একটা কথা প্রায়ই শোনা যাচ্ছে : বাংলা ব্যাকরণের সংস্কার হোক। অনেকের মুখে দাবীটা আরও জোরালো— তাঁরা বলেন, বাংলা ভাষার নিজস্ব ব্যাকরণ চাই। তাঁদের অভিযোগ, বাংলা ব্যাকরণ নামে যে বিদ্যার চর্চ্চা হচ্ছে তা আসলে বেনামীতে সংস্কৃত ব্যাকরণ। কথাটাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ণত্ববিধান, ষত্ববিধান, সন্ধিবিচ্ছেদ,

আফগানিস্থান— প্রসঙ্গ : অতীত ও বর্ত্তমান

তালেবান উত্থানের কারণ অনুসন্ধানে বামাতী-জামাতী, যুক্তিমনা-চুক্তিমনা, ধার্ম্মিক-নাস্তিক ইত্যাদি বামন বনসাই পণ্ডিতেরা যথেষ্ট পরিশ্রম করছেন। কেহ আমেরিকা, কেহ রাশিয়া, কেহ পাকিস্তান, কেহ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, কেহ ইসলাম, কেহ আল্লাহর রহমতকে তালেবান উত্থানে মূখ্য কারণ দাবী করছেন। এভাবে জঙ্গিবাদ বা কট্টর ধর্ম্মমত প্রতিষ্ঠা পেলে দু’চারটী রাষ্ট্র ছাড়া সবদেশেই

রাঙা পথের ধূলায়

ধ্বনির থাকে প্রতিধ্বনি। অনেক সময় ঝগড়াঝাটিতে আমরা ব্যঙ্গ করি, ভেংচি কাটি। প্রতিধ্বনি ঋণী আছে ধ্বনির কাছে, সেটা অস্বীকার করতে গিয়ে সে ধ্বনির প্রতি মুখ ভ্যাংচায়, উপহাস করে যেন। এইজন্য রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘ধ্বনিটিরে প্রতিধ্বনি সদা ব্যঙ্গ করে / ধ্বনি কাছে ঋণী সে যে পাছে ধরা পড়ে।’

চাচাকাহিনী : পর্ব্ব – ৩

সাত— দুপুর গড়িয়ে যায়, কোন প্রকার খাবারের এন্তেজাম দেখি না। চাচা নিজে দুপুরে কিছু খান না, তাই বলে কি আমাদেরও না খেয়ে থাকতে হবে? চাচা জানালেন আপন সাধারণত খাবার নিয়ে আসে। আজ ভুলে গেছে। শুনে আপন বলে, ‘বলেন কী খাবেন? এখন তো অর্ডার করলেই খাবার

ভাষার সমাজ, চেতনাকাঠামো ও পরিবর্ত্তন

জীবন ও জগৎ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা নিয়ে আমরা আমাদের ভাষার সমাজে আছি, কিন্তু ভাষা জানা আর প্রকাশের যোগ্যতা আমাদের এক রকম নয়। ভাষাবিজ্ঞানী জোনাথান কালার ‘কিছু বোঝা আর না বোঝার’ সাথে ভাষা বিষয়ক Competence আর Performance-কে যুক্ত করে বলেন, একই বিষয় সম্পর্কে আমরা ভিন্ন

ছায়ার শোক ও পৃথিবী তার সন্তানদের কোথায় নেয়

পৃথিবী তার সন্তানদের কোথায় নেয় ধরণী মা হলে আকাশ তো তবে পিতাই আর আমরা পৃথিবীর সন্তান না হলে— আমরা তাহলে কারা, আমরা তবে কোথায়? যদি হয়— আমরা কি পৃথিবীর পেটের ভেতর অবস্থান করছি? আকাশ ও ধরণীর মাঝখানে, মায়ের পেটে থাকার মত! আমরা কি ভূমিষ্ঠ হওয়ার

দ্য গার্ল সিটিং বাই দ্য উইণ্ডো

বলা হয়, 8.2 seconds কোন সুন্দরী রমনীর দিকে একনজরে তাকালে, মস্তিস্কে ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হয়। তখন পুরুষ এক অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ অনুভব করে এবং ওই নারীর প্রেমে হাবুডুবু খেতে শুরু করে। এটাকে ল্যভ এ্যাট ফার্স্ট সাইট বা শেক্সপীয়রিয়ান ল্যভ বলে। উঁনার নাটকে নায়ক নায়িকা প্রায়শই প্রথম

একটুখানি পরিচয়

বাপু, এত সাদা কথা কও ক্যনে? একটু শ্যামল কথা কও, অব্যক্ত বর্ষায় জুড়াক পরাণ! … লোকমুখে শোন নাই? এইখানে রমনীরা নয়ন পিঞ্জরে পুষে শ্যামসুখপাখি! মওলার ইশকুলে পড়ো নাই? আমরা যে শ্যামলবরণ জাতি! … সাদা না, শ্যামল মনের মানস আমি! দেখি, সময়ে সময়ে রং বদলায় প্রকৃতি